ছ’মাস আগে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ ও ৬ আসনে পরাজয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে শাসকদল বিএনপিতে।
পরাজয়ের পর দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টি জানিয়ে কেন্দ্রের কাছে চিঠি দিয়েছে। সোমবারের সভায় এ আলোচনা প্রকাশ্যে এসেছে। কেসিসির প্রশাসক ও দলের নগর সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বাহাস হয়েছে। থামিয়েছেন সভার মধ্যমণি আইনমন্ত্রী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিভিন্ন সময়ে খুলনা-২ আসনকে বিএনপির দুর্গ বলে আখ্যায়িত করে। ১৯৯১, ১৯৯৬ সালে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়। বিজয় সুনিশ্চিত হওয়ায় ২০০১ সালের ৮ম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রধান এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কেন্দ্র নিশ্চিত ছিল এবার ও এ আসনে দল বিজয়ী হবে। সেক্ষেত্রে দলের প্রার্থী ৫ হাজার ৫৯২ ভোটের ব্যবধানে এ আসনে এবং খুলনা-৬ আসনে ২৬ হাজার ১৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। পরাজয়ের পর প্রার্থীরা দ্বন্দকে প্রাধান্য দিয়ে কেন্দ্রের কাছে অভিযোগ করে।
সোমবার বিকেলে প্রেসক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে দলের জেলা ও নগর শাখার মত বিনিময় সভায় এ দুটি আসনে পরাজয় নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনায় আসে। দলের নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন খুলনা-২ আসনে পরাজয়ের পেছনে দলের প্রার্থীর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, অহমিকা এবং কর্মীদের সাথে যোগাযোগ না রাখাকে দায়ী করেন। কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এর জবাবে বলেন, নগর সাধারণ সম্পাদক অসত্য বলেননি, মিথ্যা বলেননি। তার বক্তব্য সঠিক নয়।
কোনো রকম আবেদন নিবেদন ছাড়াই তিনি এ আসনে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। খুলনা কøাবে শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বৈঠকের পর নির্বাচনি প্রচারণায় ১২ দিন সময় ছিল। এ সময়ের মধ্যে কর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের কাছে পৌঁছানো কষ্টসাধ্য। এ সময়ে সভার মধ্যমণি মোঃ আসাদুজ্জামান কেসিসি প্রশাসকের
উদ্দেশ্যে বলেন, অভিযোগকারী আপনার হাতের তৈরি কর্মী, তার পাতা ফাঁদে পা দিয়েছেন। কেসিসি প্রশাসককে বলেন, আপনি বিচক্ষণ রাজনীতিক। এ প্রসঙ্গে কোনো উত্তর দেয়া যুক্তিযুক্ত নয়।
সভায় তরমুজ উৎপাদিত দুটি উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ ওঠে। ডিলারকে ৫ লাখ মে.টন এবং সহযোগী ডিলারকে ২ লাখ টন করে সার দেওয়ার সুপারিশ অনৈতিকতার আশ্রয় নেয় বলে বক্তাদের মধ্য থেকে অভিযোগ ওঠে। এতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। বক্তাদের অভিযোগ লোডশেডিং সরকারের ভাবমুর্তিকে ক্ষুণ্ন করেছে। খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতিতে দলের ইমেজ নষ্ট হয়েছে। এবছরের প্রথম ৮ মাসে জেলায় ৫৮ জন খুন হয়। সভায় আর ও অভিযোগ ওঠে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে দলের বিকাশ হচ্ছে না। কয়রা, ডুমুরিয়া, দাকোপ উপজেলা ও চালনা পৌরসভার কমিটি নেই। জেলা কমিটির সাংগঠনিক ক্ষমতাও নেই। জেলার সাংগঠনিক চিত্র কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বক্তারা নগর সভাপতি এস, এম শফিকুল আলম মনা, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এস, এম মনিরুল হাসান বাপ্পী ও কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নামে মামলা প্রত্যাহার ও জেলায় মন্ত্রীর দাবি করেন। সভায় মন্ত্রী আগামী ইউপি ও উপজেলা নির্বাচনে দলের একক প্রার্থী দেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন। বলেন, ইউপি নির্বাচনে ফলাফল দেখে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের জনপ্রিয়তা যাচাই হবে। জনপ্রিয়তা যাচাই না করে শুধু পছন্দের ব্যক্তিকে প্রার্থী দিলে নির্বাচনে ভরাডুবি হতে পারে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, এ সভায় জেলা পর্যায়ের ২শ জন, মহানগর এলাকার ১১০ জন উপস্থিত ছিলেন। নজরুল ইসলাম মঞ্জুর অনুসারী ১২০ জনের তালিকা দেওয়া হলেও কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি ৪০ জনের প্রবেশের অনুমতি দেয়। এ সভায় নগর শাখার সভাপতি ও কেডিএ চেয়ারম্যান এস, এম শফিকুল আলম মনা সভাপতিত্ব করেন। সভায় জেলা মন্ত্রী ছাড়াও কেন্দ্রের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক, হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, ওয়াসার চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি, জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, জেলা আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন দলের জেলা আহ্বায়ক মো মনিরুজ্জামান মন্টু। বলেন, এ সভায় আমরা সার্বিক ঐক্য চেয়েছি। আইনমন্ত্রীর কাছে সাংগঠনিক পর্যায়ের সকল তথ্য রয়েছে। উপজেলা ও ইউপি নির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি সভায় তুলে ধরেন।
সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা প্রসঙ্গে : মহিলা দলের ২২ নং ওয়ার্ডের সদস্য সাদিয়া নার্গিস শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় দলের কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি দলের নেতাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ করেন। বিবৃতিদাতারা হলেন- নগর মহিলা দলের আহ্বায়ক এ্যাড. জাহানারা বেগম ও যুগ্ম আহ্বায়ক কাওসারি জাহান মঞ্জু।
খুলনা গেজেট/এএজে

